সূর্যের আলোতে ডিজিটাল সানডায়ালঃ সহস্রাধিক বছরের প্রচেষ্টা

সূর্যঘড়ি

সূর্যের আলোতে সময় নির্ধারণের কৌশলের প্র্যাকটিস মানুষের বহু আগে থেকেই। খিষ্টপূর্ব প্রায় ১৫০০ অব্দ থেকে শুরু করে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত সানডায়াল ব্যবহার করতেন আমাদের পূর্বপুরুষগণ। অ্যানলগ চাকতির ওপরের ত্রিভুজাকৃতির সানডায়াল বা সূর্যঘড়ির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। সূর্যের আলোতে তার ছায়া চাকতির ওপর নির্দেশ করতো তখনের সময় কত।

সূর্যের আলোতে অ্যানালগ ঘড়ি হয়ে গেল ডিজিটাল

সেসব সানডায়াল বা সূর্যঘড়ি আজকালকার ঘড়ির মত এতটা নিখুঁত সময় দিতে পারতনা। কিন্তু তবুও দিনের বিভিন্ন সময়ে যেহেতু সূর্যের অবস্থান পৃথিবীর সাপেক্ষে পরিবর্তিত হত, তাই সেটির ব্যবহার ভালোই প্রচলিত ছিল। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে একজন ফরাসি প্রকৌশলী এই যন্ত্রটিকে ডিজিটাল যন্ত্রে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি 3D প্রিন্টেড সানডায়াল তৈরি করে দেখিয়েছেন যা আশির দশকের ডিজিটের স্টাইলে ঘটির সময় ছায়ার আকারে প্রদর্শন করে।

প্রযুক্তিগতভাবে এটি হয়ত ডিজিটাল না। তবে হ্যাঁ ডিজিটাল ঘড়ির মতই সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে এর থেকে পরিবর্তিত ডিজিটের ছায়া তৈরি হয়। নিঃসন্দেহে এটি তৈরি করতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। উদ্ভাবক এর নাম দিয়েছেন মজোপটিক্স Mojoptix. খুব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এর ত্রিভুজাকৃতির দণ্ডের মধ্যে হিসেব করে ছেদ তৈরি করা আছে। সূর্যের অবস্থান বদলানোর সাথে সাথে এই ছেদগুলো দিয়েই আলো গিয়ে ছায়ার মধ্যে ডিজিটের আকৃতি তৈরি করে ঘণ্টা, মিনিট ইত্যাদি দেখায়। উদাহরণস্বরূপঃ সকাল ১০ টার সময় এতে দেখায় 10:00 AM.

এর মধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর তা হল, এটি রাতে সময় দেখাতে পারেনা। কারণ, তখন সূর্যের আলো পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। মোটামুটি সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এটি নিখুঁত সময় দেয়।

তাছাড়াও আরেকটি সমস্যা হল এটি প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তর সময় পরিবর্তিত করে দেখায়। প্রতি মিনিটে সময় পরিবর্তন করাতে এর পেছনে আরো অনেক জটিল সমীকরণে যেতে হবে। সূর্যঘড়ি বলতে যে জিনিস আমাদের পূর্বপুরুষেরা ব্যবহার করতেন তারই ধারাবাহিকতায় সূর্যের আলোতে সময় দেখানোর শুধুমাত্র কাঁটার পরিবর্তে ডিজিট দেখানো – এটাই আপগ্রেড হয়েছে। এই ঘড়ির বাণিজ্যিক ব্যবহারও শুরু হয়েছে। এটি কীভাবে ঘরে নিজে ব্যবহার করবেন সেটাপ করার পদ্ধতিও অনলাইনে সুলভ।