পরকীয়া প্রেমের নিষ্ঠুর পরিণতি

পরকীয়ার পরিণতি

স্ত্রী আসমা খাতুনকে গুলি করে মেরেছেন স্বামী পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়। একই সময় ঘাতক সৌমেন রায়ের গুলিতে নিহত হন স্ত্রীর কথিত পরকীয়া প্রেমিক শাকিল। অতপর পালাতে থাকা স্ত্রীর শিশু সন্তান রবিনকেও গুলি করে হত্যা করেছে ওই পাষুণ্ড ঘাতক।

ঘটনা ঘটেছে ১৩ জুন কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের কাস্টমস মোড়ে। রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে এই কাণ্ড করেন ঘাতক সৌমেন রায়। খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত সৌমেন পিস্তল ও ১২টি গুলি নিয়ে আগের দিন রাতে কুষ্টিয়ায় আসমার বাড়িতে আসেন। পরদিন সকালে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাস্তায় বেরিয়ে এই ঘটনা ঘটান। তিন জনকে হত্যা করতে ১১টি গুলি করেন।

সৌমেন রায়ের সাথে আসমা খাতুনের এটা তৃতীয় বিয়ে। শিশু রবিন আসমার দ্বিতীয় স্বামীর সন্তান। সৌমেনের বাড়ি মাগুরায়। পুলিশে কর্মরত সৌমেন ২০১৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে পোস্টিং পান। সেখানে পরিচয় হয় আসমার সাথে। প্রেম করে তারা ওই বছর বিয়ে করেন।

এদিকে সৌমেন প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে খুলনাতে থাকেন। ২০০৫ সালে পুলিশে চাকরির পর পাশের গ্রামে বিয়ে করেন। আসমার সাথে বিয়ের কথা সৌমেনের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির কেউ জানে না।

মুসলিম আসমার সাথে হিন্দু সৌমেনের বিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বৈধ নয়। তবুও প্রেমের টানে এসব করেছেন। তিনজনের গুলিবিদ্ধ লাশ আর ঘাতক গ্রেফতার। তিনটি পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে গেল।

পরকীয়ায় বলি হয়ে শিশু মৃত্যু বেড়েই চলেছে। এধরণের ঘটনা প্রায়শ পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাবা মা নিজেরাই হত্যা করছে কিংবা পরিকল্পনা করে অন্যদের দিয়ে হত্যা করাচ্ছে।

এ মাসেরই তিন তারিখে ঠাকুরগাঁওয়ে মা জান্নাত আক্তার ছয় বছর বয়সী ছেলে আমির হামজা আরাফকে হত্যা করেন। ঢাকায় স্বামীর সাথে থাকার সময় একই ভবনের যুবক ইমরানের সাথে ভালোবাসা ও শারীরিক সম্পর্ক হয়।

করোনার কারণে স্ত্রী সন্তানদের গ্রামে রেখে আসেন স্বামী খলিলুর রহমান। এদিকে ইমরান বিয়ের জন্য জান্নাত আক্তারকে চাপ দিতে থাকেন। পরকীয়ায় অন্ধ হয়ে অবশেষে মা এই কাজ করেন।

স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে কেউ কেউ পরকীয়ায় জড়াচ্ছেন। পরিণতিতে বিয়ে ভাঙছে, শিশু হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

আরো পড়ুন : ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী করলেন মামলা, স্বামী পাঠালেন তালাকনামা!